স্ত্রীর প্রেমিককে যেভাবে ধরলেন স্বামী…

স্ত্রী পরকীয়ায় আসক্ত। প্রেমিক স্বামীরই ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু। বিষয়টি বুঝতে পেরেছিলেন স্বামী। তিনি ওই বন্ধুকে বাসায় আসতে বারণও করেছিলেন। তারপর থেকে বাসার আশপাশে আর ওই বন্ধুকে দেখেননি সেই স্বামী। কিন্তু প্রায়ই তিনি নাইটি বা মেয়েদের গাউন ও ওড়না পরা একজনকে বাসায় আসতে দেখতেন। তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে কথাও বলতেন। এ সময় ওই স্বামী গভীর ঘুমে থাকতেন। প্রায় এমন হওয়ায় তাঁর সন্দেহ হয়, এত ঘুম কেন! একদিন তিনি বুঝতে পারেন, তাঁকে চেতনানাশক ক্লোরোফর্ম দিয়ে ঘুম পাড়ানো হয়। তারপর নারীর ছদ্মবেশধারী ওই ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর স্ত্রী অবৈধ যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হন।

 

 

 

সম্প্রতি নারীর ছদ্মবেশে ওই ব্যক্তি বাসায় ঢুকে ক্লোরোফর্ম দেওয়ার সময় হাতেনাতে ধরে ফেলেন ওই নারীর স্বামী। দেখা যায়, নারীর ছদ্মবেশধারী ওই ব্যক্তি অন্য কেউ নন, তাঁরই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের পুনে শহরের গঙ্গাধাম চকের বিবেওয়াদি এলাকায়।

 

 

 

গতকাল সোমবার টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার রাজেশ ঘিচুলাল মেহতা নামের ছদ্মবেশী ওই প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে খাদাক পুলিশ। বয়স ৪৪। ওই নারীর স্বামী শুকরাওয়ার পেথ তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। মেহতাকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

 

 

 

অভিযোগকারী শুকরাওয়ার পুলিশকে বলেছেন, ‘সম্প্রতি বাসার নিরাপত্তারক্ষীর কাছে জানতে পেরেছি, আমার অনুপস্থিতিতে বন্ধু মেহতা প্রায়ই বাসায় আসেন। এরপর আমি জানতে পারি যে প্রায় সাত বছর থেকে আমার স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর অবৈধ যৌন সম্পর্ক রয়েছে। এ কথা জানার পর মেহতাকে বাসায় আসতে একদম বারণ করে দিয়েছিলাম।’

 

 

 

 

শুকরাওয়ার বলেন, তাঁর সন্দেহ হতো যে মেহতা প্রায়ই চোরের মতো নিঃশব্দে তাঁর বাসায় ঢুকতেন। প্রতিবেশীদের কাছে নিজের পরিচয় গোপন রাখতে নারীদের গাউন ও ওড়না পরে আসতেন। বাসায় ঢুকে ঘুমের মধ্যে তাঁকে চেতনানাশক দিতেন। এরপরই মেহতা তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে অবৈধ কর্মে জড়াতেন। গত বুধবার তাঁর হঠাৎ করে ঘুম ভেঙে গেলে বুঝতে পারেন, কাপড় দিয়ে মুখ ঢাকা কেউ একজন তাঁর নাকের কাছে গন্ধযুক্ত কিছু ধরার চেষ্টা করছেন। তিনি সতর্ক হয়ে ওঠেন। হাত ধরে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেন। ওই ব্যক্তির মুখ থেকে কাপড়টি জোর করে টেনে নিলে দেখেন, তিনি তাঁর বন্ধু মেহতা। এ ঘটনায় মেহতা ভয় পেয়ে যান। শেষে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে মুখ ঢাকা কাপড়টি ফেলে তিনি পালিয়ে যান।

 

 

 

 

শুকরাওয়ারের ভাষ্য, ‘গত বুধবার খুব সকালে আমার ঘুম ভেঙে গেলে স্ত্রীকে নিয়ে জিমে যাই। বাসায় ফিরে নাশতা করার পর একটু ঘুমাতে যাই। বেলা ১১টার দিকে হঠাৎ একটা উৎকট গন্ধে ঘুম ভেঙে যায়। শুরুতে ওই ব্যক্তিকে দেখে মনে হয়েছিল, বাসায় ডাকাতি হচ্ছে। আমি তাঁকে বলি, তুমি কে, এখানে কীভাবে এলে, কী চাও তুমি? কিন্তু এসবের কোনো উত্তর না দিয়েই তিনি আমাকে চড় মারতে থাকেন। একপর্যায়ে শুরু হয় হাতাহাতি। তাঁকে ধাক্কা মারা মাত্রই তিনি পাশের আরেকটি ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। এ সময় আমার স্ত্রীর কাছে জানতে চাই যে তিনি তাঁকে চেনেন কি না। কিন্তু স্ত্রী তাঁকে চেনেন না বলে জানান। একসময় হঠাৎ করে ওই ব্যক্তি দরজা খুলে নিচের দিকে দ্রুত পালাতে থাকেন। আমি তাঁকে জাপটে ধরে ফেললে তিনি আমার টি-শার্ট ছিঁড়ে ফেলেন। একসময় নাইট গাউন পরে আসা ওই ব্যক্তির মুখ থেকে কাপড়টি পড়ে গেলে দেখি, তিনি আসলে বন্ধু মেহতা। তিনি গাড়ি চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার আগে আমাকে হুমকি দিয়ে গেছেন।’

 

 

 

 

এ ঘটনার তিন দিন পর শুকরাওয়ার পুলিশের কাছে মেহতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। গত শনিবার তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত রোববার আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তাঁকে পুলিশ হেফাজতে রেখে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।

 

 

 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক সঞ্জয় গাইকওয়াদ বলেন, বাদীপক্ষ জবানবন্দি দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মেহতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সময় ব্যবহার করা ছেঁড়া গাউন, টুকরো কাপড় ও গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। অভিযোগকারীকে কোনো রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে চেতনা লোপের চেষ্টা করা হয়েছিল—তা তদন্ত হচ্ছে।

 

 

 

 

বাদীর আইনজীবী এন ডি পাতিল বলেন, ‘এটা মারাত্মক অপরাধ। আমরা আসামিকে পুলিশ হেফাজতে রাখার আবেদন করেছি। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা করার জন্য আবেদন করা হবে।’

 

 

 

 

রাজেশ ঘিচুলাল মেহতার আইনজীবী অমল দাঙ্গে বলেন, মেহতার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অসত্য। এটা একটা মিথ্যা মামলা। তাই এই মক্কেলকে পুলিশ হেফাজতে রাখার কোনো প্রয়োজন নেই।’ উৎস ; প্রথম আলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *