প্রতারক স্বামীর কাছে হার না মানা এক নারী, পড়ুন তার জীবন কাহিনী

স্বামী স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে বিয়ের পর স্ত্রীর ওজন অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করার আশ্চর্য ঘটনা ঘটেছে। ডিভোর্সের পর ওই নারী এতটুকু ছাড় দেন নি। জিমে দিনের পর দিন কঠোর ওয়ার্কওয়াউট করে ঝড়িয়েছেন ৫০ কেজি। নিজের শরীরে এনেছেন আমুল পরিবর্তন।স্থুলকায় থেকে লাবণ্যময়ী হয়ে ওঠা এই নারীর নাম বেটসী আয়ালা। বয়স ৩৪। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস রাজ্যের হিউস্টন শহরে বাস করেন।

স্বামীর সঙ্গে টানাপোড়েনের শুরু বছর চারেক থেকে। এরপর ২০১৩ সাল। বেটসীর পেটে তখন অনাগত শিশু। তার ওজন বেঁড়ে দাঁড়িয়েছিল ১১৮ কেজি। ওই বছরের শেষ দিকে প্রথম মেয়ে শিশু ইসাবেলার জন্ম দেন তিনি। সবকিছু মোটামুটি যাচ্ছিল। কয়েকদিন পর বেটসী জানতে পারেন তার স্বামী অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছে। শারীরিক সম্পর্ক অব্যাহত রেখেছে।

এ নিয়ে শুরু হয় টানাপোড়েন। শুরু হয় ঝগড়া-বিবাদ। এ নিয়ে শুনতে হলো স্বামীর ‍মুখে অযাচিত গালি। নারী হিসেবে তা মেনে নেয় নি বেটসী। ওজনের কাছে হারতে পারে না তিনি। তাই শুরু করলেন ওজন কমানোর যুদ্ধ। যে যুদ্ধে অংশ নেয় তাঁর আপন ছোট বোনও।

বেটসী শোনালেন হার না মানার গল্পটি। ‘আমি বুঝতে পারছিলাম না কি করবো। স্বামী প্রতারণা করে ছেড়ে দিয়েছে। ওজনের অভিযোগ দিয়েছে। তখন আমি ১১০ কেজিরও উপরে। ছোট বোনের সঙ্গে জিমে যাওয়া শুরু করি। সপ্তাহের ছয় দিন যাই। কঠোর পরিশ্রম শুরু করি।’

এখন তার ওজন মাত্র ৭২ কেজি। তবে ওজন কমানোর পেছনে স্বামীর প্রতারণাকে উৎসাহ হিসেবে দেখছেন তিনি। বেটসির ভাষ্যমতে, ‘ও ছেড়ে যাওয়াকে আমি উৎসাহ হিসেবে নিয়েছি। আমি আমার মেয়ের আদর্শ মা হতে চাই। আমাকে নিয়ে যাতে সে কোনোদিন কোথায় কষ্ট না পায়। মেয়ে ও নিজের জন্যই এ পরিশ্রম করতে শুরু করি আমি।’

বেটসী ছোটবেলা থেকেই ওজন বেড়ে যাওয়া নিয়ে সমস্যায় ভুগতেন। অনেকেই তাকে এই স্থুলকায় নিয়ে ঠাট্টাতামাশা করতো। এসব কিছুকে উৎসাহ হিসেবে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে গেছে সে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *