অনুরোধ করে কাদেরকে যা বললেন পৃথুলার মা

নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলা বিমানের পাইলট পৃথুলা রশীদের বাড়িতে গিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

আজ বৃহস্পতিবার সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কাছে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের এ গর্বের কথাই প্রকাশ করেন তিনি। আজ বেলা ৩টা ১০ মিনিটে পৃথুলাদের মিরপুরের বাসায় যান ওবায়দুল কাদের।

পৃথুলার মা বলেন, ‘মেয়েকে স্যালুট দেই। অন্যদের বাঁচাতে গিয়ে যে মেয়ে জীবন দিয়েছে তার জন্য আমি গর্বিত। গতকালও সে স্বপ্নে এসে আমাকে মিষ্টি খাইয়ে গেছে।’

এসময় পৃথুলা রশীদের মা রাফেজা বেগম নিহত সবার জন্য দোয়া চান চেয়ে মেয়ের মুখটা শেষবারের মতো দেখার ব্যবস্থা করার জন্য সেতুমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানান তিনি। কথা বলতে বলতে বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন পৃথুলার মা। এ সময় পৃথুলার বাবা আনিসুর রশীদ ও মামাসহ স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

ওবায়দুল কাদের এ সময় শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। সেই সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে সব প্রকার সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

উল্লেখ্য, গত সোমবার (১২ মার্চ) ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিএস-২১১ নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুর্ঘটনায় পরে। ৬৭ যাত্রী ও চার ক্রুসহ দুপুর ২টা ২০ মিনিটে বিমানটি বিমানবন্দরের পাশের একটি ফুটবল মাঠে বিধ্বস্ত হয়। এতে ৫১ যাত্রীর প্রাণহানি ঘটে। বাকিদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতলে ভর্তি করা হয়।

বিমানটিতে মোট ৬৭ যাত্রীর মধ্যে বাংলাদেশি ৩২ জন, নেপালি ৩৩ জন, একজন মালদ্বীপের ও একজন চীনের নাগরিক ছিলেন। তাদের মধ্যে পুরুষ যাত্রীর সংখ্যা ছিল ৩৭, মহিলা ২৮ ও দু’জন শিশু ছিল।

ওই বিমান দুর্ঘটনায় নিজের কথা না ভেবে আগে যাত্রীদের রক্ষা করার চেষ্টা করেন প্রিথুলা। ১০ জন নেপালি যাত্রীকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে নিরাপদে সরিয়ে দিতে নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করতে করতেই মর্মান্তিক মৃত্যু হয় প্রিথুলার।

তবে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রিথুলা রশিদের অন্যের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়নি। ওই ১০ নেপালি যাত্রীর সবাই দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন। তারা সবাই এখন বেঁচে আছেন।

তার জীবন উৎসর্গ করে অন্যদের জীবন বাঁচানোয় ভারত ও নেপালের সোশ্যাল সাইটগুলো প্রিথুলা রশিদকে ‘ডটার অফ বাংলাদেশ’ নামে আখ্যায়িত করে।

Comments are closed.